ভয়াবহ বিস্ফোরণ ভাঙড়ে, কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম ফেটে জখম একাধিক শিশু — আতঙ্কে এলাকা

ভাঙড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের খরগাছি-চাঁদপুর এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা কেমিক্যাল ভর্তি একটি ড্রাম আচমকা ফেটে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে একাধিক শিশু। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেলে কয়েকজন শিশু রাস্তার পাশে খেলছিল। সেই সময় হঠাৎই একটি পরিত্যক্ত ড্রাম থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে কাছাকাছি থাকা চারজন শিশু মারাত্মকভাবে জখম হয়। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে কয়েকজনকে। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছে, দগ্ধ ও বিস্ফোরণের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ড্রামটির মধ্যে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল। তাপ বা ঘর্ষণের কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কীভাবে ওই ড্রামটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়ল এবং কেন তা খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরিত ড্রামের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দমকল ও বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরাও এলাকা খতিয়ে দেখছেন। কোনও অসৎ উদ্দেশ্য বা নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। আহতদের পরিবারকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকায় যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপজ্জনক বস্তু ফেলে রাখা না হয়, সে বিষয়ে কড়া নজরদারির কথাও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায়ই পরিত্যক্ত ড্রাম বা রাসায়নিক পদার্থ ফেলে রাখা হয়, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক নজরদারি থাকে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাঙড় ও আশপাশের এলাকায়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানা যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই দুর্ঘটনা আবারও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণ ও পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these