হরিয়ানা: বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস। সংসার শুরুর স্বপ্ন এখনও নতুন। তার মধ্যেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। গর্ভবতী স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মহক (বয়স প্রায় ২৭)। তিনি পেশায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিক ছিলেন এবং কর্মসূত্রে গুরগাঁওয়ে কর্মরত ছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় অন্সুল নামে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের। পরিবার সূত্রে দাবি, দাম্পত্য জীবনের মাত্র পাঁচ মাস কেটেছে। এরই মধ্যে জানা যায়, মহক প্রায় দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
অভিযোগ, গত রবিবার রাতে গুরগাঁও থেকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে স্বামী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের গাড়ি আটকে হামলা চালায়। তাঁর দাবি ছিল, হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রীকে আঘাত করে এবং গাড়ি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক নালার ধারে মহকের দেহ উদ্ধার করে। তাঁর গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তবে তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ বাড়তে থাকে। স্বামীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ঘটনার সময়, স্থান ও পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। এরপর কড়া জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, শেষ পর্যন্ত তিনি স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত প্রথমে গলা টিপে হত্যা করেন এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার পর তা লুঠপাটের ছক বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। গাড়ির কাচ ভাঙা, নাটকীয় বয়ান—সব মিলিয়ে ঘটনাকে অন্য খাতে ঘোরানোর চেষ্টা ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। তবে প্রযুক্তিগত তথ্য, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলের ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে পুরো ঘটনার জাল উন্মোচিত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ থেকেই এই নৃশংস সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত। দাম্পত্য কলহের জেরেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় বলে অনুমান তদন্তকারীদের। যদিও অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, পুরো বিষয়টি আদালতেই স্পষ্ট হবে।
মৃতার পরিবার ভেঙে পড়েছে। তাঁদের দাবি, কঠোরতম শাস্তি হোক অভিযুক্তের। পরিবারের এক সদস্য জানান, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর মানসিক চাপ ছিল। তবে এমন পরিণতি হবে, তা কল্পনাতেও ছিল না।
পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে দাম্পত্য সম্পর্কে সহিংসতা, সন্দেহ ও মানসিক নির্যাতন নিয়ে। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।