পাকিস্তান হকি মহলে বড়সড় বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন ফেডারেশনের সভাপতি। দলের অধিনায়ক শাকিল আম্মাদের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক শাকিল আম্মাদ অভিযোগ করেন যে, বিদেশ সফরের সময় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, আর্থিক সঙ্কটের কারণে খেলোয়াড়দের হোটেলে নিজেরাই বাসন মাজতে হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (PHF)।
অধিনায়কের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ক্রীড়া মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—একসময় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হকি দল কি এখন এতটাই আর্থিক দুরবস্থায়? বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রাক্তন খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া বিশ্লেষকরাও ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন।
চাপ বাড়তেই ফেডারেশনের সভাপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি জানান, খেলাধুলার স্বার্থে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের সুবিধার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যদি কোথাও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, আর্থিক সমস্যার কথা স্বীকার করা হলেও খেলোয়াড়দের অপমানের অভিযোগ পুরোপুরি খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে চলেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা পাকিস্তান হকির দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। একসময় অলিম্পিক ও বিশ্বকাপে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্য থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। আর্থিক অনটন, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সমস্যাই এর প্রধান কারণ বলে মত ক্রীড়া বিশ্লেষকদের।
এই পরিস্থিতিতে সভাপতির পদত্যাগ সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমালেও, মূল সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন সকলের নজর তদন্ত প্রক্রিয়া ও ফেডারেশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
পাকিস্তান হকির গৌরবময় অতীতকে সামনে রেখে অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও স্বচ্ছ প্রশাসনই পারে এই ঐতিহ্যবাহী খেলাকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।