হাওড়া: গভীর ভক্তি, আধ্যাত্মিক আবহ এবং বিপুল সমাগমের মধ্য দিয়ে আজ হাওড়ার বেলুড় মঠে উদযাপিত হল শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ১৯১তম জন্মতিথি। ভোর থেকেই গঙ্গাতীরে অবস্থিত মঠ প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে ভক্তরা উপস্থিত হন এই বিশেষ দিনে শ্রদ্ধা জানাতে।
দিনের সূচনা হয় মঙ্গলারতি ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে। সূর্য ওঠার আগেই মূল মন্দিরে ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আরতি দর্শন করেন। এরপর শুরু হয় বেদপাঠ, স্তোত্রপাঠ এবং ভজন-সঙ্গীত। সন্ন্যাসী মহারাজদের ধর্মসভায় শ্রী রামকৃষ্ণের জীবনদর্শন, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা এবং মানবপ্রেমের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঠ চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে ভক্তদের যাতায়াতে কোনও অসুবিধা না হয়। চিকিৎসা শিবির ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। দুপুরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন।
শুধু বেলুড় মঠেই নয়, শ্রী রামকৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুরেও একইভাবে পালিত হয় জন্মতিথি উৎসব। সেখানে সকাল থেকে পূজা, কীর্তন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রম কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিশেষ মেলা, যা কয়েকদিন ধরে চলবে বলে জানা গেছে।
শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের আদর্শ আজও সমান প্রাসঙ্গিক—এই বার্তাই উঠে আসে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে। তাঁরা বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের সময়ে শ্রী রামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের শিক্ষা সমাজকে নতুন দিশা দেখায়। তাঁর জীবন ও বাণী মানুষকে সত্য, প্রেম ও সহিষ্ণুতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
সারাদিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় হয় সান্ধ্য আরতি। গঙ্গার ধারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ভক্তিগীতি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনভর কর্মসূচি। আধ্যাত্মিক আবহে মুখর বেলুড় মঠ আবারও প্রমাণ করল, শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের প্রতি মানুষের ভক্তি ও ভালোবাসা আজও অটুট।