রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছেন দিলীপ ঘোষ-এর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বায়োডাটা দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয় স্তরে সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল স্তর থেকে সংগঠনের কাজ করে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন তিনি। ফলে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করাটা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ফল।
বর্তমানে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি-র সক্রিয় কর্মী হিসেবেই পরিচিত। দলীয় অন্দরে জানা যাচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি একাধিক কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে মেদিনীপুর, বিজপুর এবং নিউ টাউন। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে যেকোনও একটিতে লড়তে আগ্রহী তিনি।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের বহু কর্মীই টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর স্ত্রীও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নেতৃত্বই। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনও প্রভাব খাটাবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর স্ত্রীর সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের এবং দল সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বিজেপির অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে অভিজ্ঞ নেতার পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল স্তরের কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর পক্ষে যেতে পারে। তবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে পর্যন্ত সবটাই জল্পনার পর্যায়ে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। শাসক-বিরোধী সব দলই সংগঠন শক্তিশালী করার কাজে নেমে পড়েছে। এই আবহে রিঙ্কু মজুমদারের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এখন দেখার, দলীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করে এবং কোন কেন্দ্রে তাঁকে লড়াইয়ের ময়দানে নামানো হয়। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সময়ই বলবে এই সিদ্ধান্ত বিজেপির পক্ষে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।