ব্যাংক লকারকে সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বলেই মনে করেন গ্রাহকেরা। বহু মানুষ তাঁদের সোনা, গয়না, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান সামগ্রী ব্যাংকের লকারে রেখে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সেই বিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগল। লকার খুলতেই দেখা গেল, ভিতরে রাখা গয়নার বড় অংশই উধাও! ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক মহিলা গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের একটি লকার ব্যবহার করছিলেন। সম্প্রতি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে লকার খোলার পর তিনি দেখতে পান, ভিতরে রাখা সোনার অলঙ্কারের বেশ কিছু অংশ আর নেই। পরিবারের দাবি, কয়েক লক্ষ টাকার গয়না সেখানে সংরক্ষিত ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তাঁরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কী বলছে ব্যাংক?
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। লকার খোলার সময় কোনও ভাঙচুরের চিহ্ন ছিল না বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, লকার অপারেশন রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্যাংকের তরফে দাবি করা হয়েছে, সমস্ত নিয়ম মেনেই লকার পরিচালিত হয় এবং নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি হয়নি কিনা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা লকার ব্যবহারের সময়সূচি, কারা কারা প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং কোনও অনিয়ম হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে ব্যাংক কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে চূড়ান্ত কিছু জানা না গেলেও, বিষয়টি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্ষতিপূরণ দেবে কি ব্যাংক?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ধরনের ঘটনায় গ্রাহক কি ক্ষতিপূরণ পাবেন?
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Reserve Bank of India-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যাংক লকার পরিষেবা মূলত একটি ‘সেফ কাস্টডি’ সুবিধা। অর্থাৎ ব্যাংক জায়গা দেয়, কিন্তু ভিতরে কী রাখা আছে তার তালিকা সাধারণত ব্যাংক সংরক্ষণ করে না।
তবে যদি প্রমাণিত হয় যে ব্যাংকের গাফিলতি, নিরাপত্তায় ত্রুটি বা কর্মচারীর অনিয়মের কারণে লকারের সামগ্রী হারিয়েছে, তাহলে ব্যাংককে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। RBI-র নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সাধারণত লকারের বার্ষিক ভাড়ার ১০০ গুণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। ফলে লকারে রাখা সামগ্রীর প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি হলেও, ক্ষতিপূরণ তার তুলনায় কম হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যেমন ভূমিকম্প, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যাংকের দায়বদ্ধতা আলাদা হতে পারে। প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি ও তদন্তের রিপোর্টের উপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
গ্রাহকদের জন্য কী করণীয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে,
লকারে রাখা সামগ্রীর আলাদা তালিকা ও ছবি নিজের কাছে রাখা উচিত।
গয়নার ক্রয়রসিদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
লকারের চাবি নিরাপদে রাখা এবং নিয়মিত লকার পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।
বড় অঙ্কের সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা বীমা করানোও বুদ্ধিমানের কাজ।
এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—ব্যাংক লকার কতটা নিরাপদ? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক ছবি স্পষ্ট হবে না। তবে ঘটনাটি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সকলের। নতুন কোনও তথ্য সামনে এলে তা জানানো হবে।