হিন্দুকুশে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান—আতঙ্ক ছড়াল পার্শ্ববর্তী এলাকায়

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল আবারও কেঁপে উঠল। শুক্রবার দুপুরে আফগানিস্তান-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকা জুড়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭, যার উৎপত্তিস্থল ছিল দুর্গম হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল।

আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৭৯ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। গভীরতাজনিত কারণে কম্পনের তীব্রতা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত হলেও তা তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ছিল। জার্মানির ভূবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান German Research Centre for Geosciences প্রথমে এই কম্পনের মাত্রা ও অবস্থান নিশ্চিত করে।

কাবুলে আতঙ্ক

ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী কাবুল-সহ একাধিক প্রদেশে অনুভূত হয়। বহু বাসিন্দা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল ভবনগুলো দুলতে শুরু করলে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সম্পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী দেশেও কম্পন

ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু আফগানিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী পাকিস্তান-এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একাধিক এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও সেখান থেকেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কেন এত ভূকম্পন?

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা। এখানে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে নিয়মিতভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। অতীতে এই অঞ্চলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একাধিক শক্তিশালী কম্পন আঘাত হেনেছে, যার ফলে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের নজির রয়েছে।

গভীরতায় উৎপন্ন হওয়া এই ধরনের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত অঞ্চলে অনুভূত হলেও অনেক সময় পৃষ্ঠের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রশাসনের সতর্কতা

আফগান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সচেতনতা ও প্রস্তুতিই বড় বিপর্যয় এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী কম্পন না হলেও এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট না হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নতুন কোনও তথ্য সামনে এলে তা জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these