February 23, 2026

Hindi Local News

पश्चिम बंगाल की राजनीति को बड़ा झटका, प्रख्यात नेता मुकुल रॉय का निधन

पश्चिम बंगाल की राजनीति को बड़ा झटका, प्रख्यात नेता मुकुल रॉय का निधन

Bengali Local News

প্রয়াত মুকুল রায়, রাজ্য রাজনীতিতে শোকের ছায়া

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায় রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০-এর কোঠায়। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই সংগঠক হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের প্রথম পর্ব থেকেই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি দলের কৌশল নির্ধারণ ও সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেকেই তাঁকে একসময় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করতেন।
ইউপিএ আমলে তিনি রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। প্রশাসনিক কাজকর্মে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ক্ষমতা তাঁকে জাতীয় স্তরেও পরিচিতি দেয়। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়। তৃণমূল ছেড়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, পরে আবার রাজ্য রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় উত্থান-পতন থাকলেও সক্রিয় রাজনীতির ময়দান থেকে তিনি কখনও পুরোপুরি সরে যাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুকুল রায় ছিলেন এক দক্ষ সংগঠক এবং নেপথ্যের কৌশলী। দল গঠন, প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে নির্বাচনী রণকৌশল—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
তাঁর মৃত্যুর খবরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে একাধিক নেতা তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সহজপ্রাপ্য ও মিশুক স্বভাবের—এমন মন্তব্যও শোনা গেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শীঘ্রই তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পরিবার, অনুগামী ও সহকর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে তিনি রেখে গেলেন বিতর্ক, কৌশল ও সংগঠনের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়।
মুকুল রায়ের প্রয়াণ শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আগামী দিনেও চলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।