কলকাতা: গভীর রাতে আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে উঠল শহরের তিলজলা এলাকা। স্থানীয় সূত্রে খবর, দুই ব্যক্তির মধ্যে বচসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় এবং তার জেরেই ঘটে যায় গুলি চালানোর ঘটনা। এই ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক আতঙ্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। অভিযোগ, পূর্ববর্তী কোনও বিবাদকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় নতুন করে ঝামেলা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সঙ্গীরা আহত ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোনা যায় পরপর গুলির শব্দ।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি শহরের এক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতের অবস্থা সংকটজনক হলেও চিকিৎসা চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পূর্ব পরিকল্পনা করেই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী অফিসাররা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় একাধিক অভিযোগ ছিল। তবে সেই সব ঘটনায় বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ হয়নি। এদিনের ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা পলাতক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, আহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
সব মিলিয়ে, শহরের বুকে এই গুলির ঘটনা ফের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্যক্তিগত বিবাদ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে, তিলজলার এই ঘটনা তারই আরেক উদাহরণ হয়ে রইল। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।