উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকায় ইছামতী নদীর উপর নির্মিত একটি পুরনো কাঠের সেতুকে ঘিরে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর আগে তৈরি এই সেতু বর্তমানে এতটাই বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে যে, যেকোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার করছেন।
এই সেতুটি স্বরূপনগর, বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, নিত্যযাত্রী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী— সকলেরই নদী পারাপারের প্রধান ভরসা এই কাঠের সেতু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেতুর কাঠ পচে গিয়েছে, বহু জায়গায় তক্তা সরে গেছে, কোথাও বা ফাঁক তৈরি হয়েছে। ফলে হাঁটতে গেলেই নিচে নদীর জল দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গায় রেলিং নেই বললেই চলে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অন্ধকারে পা হড়কালেই সরাসরি নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতিমধ্যেই একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনার খবর মিলেছে। সম্প্রতি দু’জন সেতু পার হওয়ার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে অল্পের জন্য।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের কাছে সেতু সংস্কার বা নতুন পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। মাঝে মধ্যে অস্থায়ী মেরামতির কাজ হলেও তা টেকসই হয়নি। বর্ষাকালে সেতুর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। নদীর জলস্তর বাড়লে কাঠের তক্তা আলগা হয়ে যায় এবং সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগে বিভিন্ন সময় আশ্বাস মিললেও বাস্তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিপদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছেন, যার ফলে সময় ও খরচ— দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, আর বিলম্ব নয়— অবিলম্বে পাকা ও মজবুত সেতু নির্মাণ শুরু করতে হবে। নচেৎ বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় এড়ানো যাবে না।
ইছামতীর উপর এই কাঠের সেতু এখন কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠেছে বলেই মত স্থানীয়দের। প্রতিদিনের যাতায়াতে আতঙ্ক সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে।