ভাঙড়ে কেমিক্যাল ড্রাম বিস্ফোরণ: ৯৫ শতাংশ দগ্ধ নাবালকের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক আরও দুই

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে মর্মান্তিক বিস্ফোরণকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে। রাস্তার ধারে রাখা একটি কেমিক্যালভর্তি ড্রামে আচমকা বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হওয়া নাবালকদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, পাশাপাশি উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের খড়গাছি-চাঁদপুর রোড সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার কাজ চলছিল। অভিযোগ, সেই কাজের জন্য ব্যবহৃত একটি কেমিক্যালভর্তি ড্রাম রাস্তার ধারে ফেলে রাখা ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকজন নাবালক ওই এলাকার কাছে খেলছিল। আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় জখম হয় চার শিশু।

দগ্ধ অবস্থায় দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এক শিশুর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। টানা লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নাবালকের। মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অন্য আহত শিশুদের মধ্যেও দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। কারও শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে, আবার কেউ তুলনামূলক কম জখম হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত দাহ্য বা বিপজ্জনক পদার্থ যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছিল। শিশুদের অবাধ যাতায়াত থাকা সত্ত্বেও কেন সেই ড্রাম খোলা জায়গায় রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতির অভিযোগও উঠছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ড্রামে কী ধরনের রাসায়নিক ছিল, তা কীভাবে বিস্ফোরিত হল, এবং নির্মাণকাজে যুক্ত কারও গাফিলতি ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, ড্রামের ভিতরে থাকা রাসায়নিক পদার্থ তাপ বা অন্য কোনও প্রতিক্রিয়ার ফলে বিস্ফোরিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে নির্মাণকাজ চলছে, সেখানে বিপজ্জনক সামগ্রী সংরক্ষণে আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙড়ের এই বিস্ফোরণ শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং অব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য পরিণতির এক করুণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এল। একরত্তি শিশুর অকালমৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—নিরাপত্তায় সামান্য গাফিলতিও কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these