ঢাকা: আলোচিত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল আবারও আইনি জটিলতাকে ঘিরে শিরোনামে। যৌন হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারের পর অবশেষে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসে এক তরুণী নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা নেন এই গায়ক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণে চাপ সৃষ্টি এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলাটি দায়েরের পর তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলে মামলাটি নতুন গতি পায়। এরপর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নির্দিষ্ট শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে উপস্থিত হয়ে নোবেল বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে অতীতের কিছু আচরণের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবীর দাবি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, সা রে গা মা পা-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান নোবেল। সংগীত প্রতিযোগিতায় আলোড়ন তোলা পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে তিনি অল্প সময়েই দুই বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে ক্যারিয়ারের উত্থানের পাশাপাশি একাধিক বিতর্ক ও আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়ায় বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই শিল্পী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন পাওয়া মানেই মামলার নিষ্পত্তি নয়; এটি বিচার প্রক্রিয়ার একটি ধাপমাত্র। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ ভক্ত তার প্রতি সমর্থন জানালেও অন্য অংশ কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে এখন সবার নজর আদালতের দিকে।