কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে রহস্যমৃত্যু: তিন দিন বন্ধ দরজা, হস্টেল কক্ষে পচাগলা দেহ উদ্ধার চূড়ান্ত বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রে

নদিয়ার কল্যাণীতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল থেকে এক ডাক্তারি পড়ুয়ার পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রের নাম পুলক হালদার (২৪)। তিনি কল্যাণীর College of Medicine & JNM Hospital-এর চূড়ান্ত বর্ষের এমবিবিএস ছাত্র ছিলেন।

তিন দিন ধরে বন্ধ ছিল ঘরের দরজা

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে পুলকের হস্টেল কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। সহপাঠীরা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে টানা তিন দিন তাকে ক্লাস, ওয়ার্ড বা ক্যান্টিনে না দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। দরজায় একাধিকবার কড়া নাড়ার পরও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। খবর দেওয়া হয় কলেজ কর্তৃপক্ষকে। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। ঘরের ভিতরে খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখা যায় ছাত্রের পচাগলা দেহ।

প্রাথমিক তদন্তে কী জানা গেল

পুলিশ সূত্রে খবর, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ঘরে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। আত্মহত্যা, অসুস্থতাজনিত মৃত্যু না অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সহপাঠী, হস্টেল কর্তৃপক্ষ ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সামনেই ছিল ফাইনাল পরীক্ষা

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুলকের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সামনেই ছিল ফাইনাল এমবিবিএস পরীক্ষা। পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

কলেজে শোকের আবহ

ঘটনার পর কলেজ চত্বরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠীদের একাংশের বক্তব্য, পরীক্ষার চাপ ও দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনার মানসিক প্রভাব অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের উপর পড়ে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তেমন কোনও কারণ জড়িত রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই রহস্যমৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে তিন দিন ধরে বন্ধ ঘরে পড়ে রইল এক ছাত্রের দেহ? নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি?

সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির পরেই। তবে আপাতত এক তরুণ চিকিৎসা শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কল্যাণী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these