রাজস্থানের দৌসা জেলায় ছয় বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক চার বছরের শিশুকে ঘিরে সামনে এল ভয়াবহ তথ্য। ২০২০ সালে বাড়ির উঠোন থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া শিশুটিকে খুন করে নির্মীয়মাণ এক্সপ্রেসওয়ের নীচে পুঁতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ১৬ অগস্ট দৌসার এক গ্রাম থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় চার বছরের শিশু প্রিন্স (ডাকনাম টিল্লু)। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী—সকলেই খোঁজ চালালেও কোনও সূত্র মেলেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্তও শিথিল হয়ে পড়ে। কিন্তু সম্প্রতি নতুন তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি আবারও খোলা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, পারিবারিক বিবাদের জেরেই শিশুটিকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। সন্দেহের তির ঘুরে যায় শিশুটির কাকা ও কাকিমার দিকে। পুলিশি জেরায় অসংগতি ধরা পড়তেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। অভিযোগ, খুনের পর দেহ গোপন করার জন্য সেটি বাড়িতে কিছুদিন লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরে গভীর রাতে নির্মীয়মাণ দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে প্রশাসন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেয়। গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (GPR) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় মাটির নীচে অস্বাভাবিক গঠন শনাক্ত করা হয়। প্রায় ৩০ ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করার পর সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। একাধিক জেসিবি মেশিন ও ফরেন্সিক দল নিয়ে টানা কয়েকদিন ধরে চলছে তল্লাশি। যদিও এখনও পর্যন্ত দেহাবশেষ উদ্ধার হয়নি, তবে তদন্তকারীরা আশাবাদী।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, অভিযোগ উঠেছে—শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে থেকে খোঁজখবরের নাটক চালিয়ে গিয়েছিল। ফলে এতদিন সন্দেহের আঙুল ওঠেনি তাদের দিকে। বর্তমানে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
শিশুটির বাবা, যিনি কর্মসূত্রে বিদেশে ছিলেন, খবর পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁর একটাই দাবি—সন্তানের দেহাবশেষ যেন উদ্ধার করা হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। গত ছয় বছরে সন্তানের খোঁজে পরিবার যে মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে গেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। দীর্ঘ ছয় বছর পর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও উত্তর খুঁজছে এক অসহায় পরিবার। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত না হলেও, প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে—দোষীরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।