হায়দরাবাদে এক তরুণী ইউটিউবারের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত তরুণীর নাম বোনু কোমালি (২১)। তিনি হায়দরাবাদের মানিকোন্ডা এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সম্পর্কজনিত মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মায়ের কাছে শেষ বার্তা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন সকালে কোমালি তাঁর মাকে একটি আবেগঘন বার্তা পাঠান। তাঁর মা কর্মসূত্রে কুয়েতে থাকেন। মেসেজে তিনি লেখেন, “আই লাভ ইউ মা”, পাশাপাশি ছোট ভাইয়ের খেয়াল রাখার কথাও উল্লেখ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি হায়দরাবাদে থাকা মেয়ের এক বন্ধুকে যোগাযোগ করতে বলেন। বন্ধু ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়।
সম্পর্ক ভাঙনের জেরে অবসাদ?
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের এক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কোমালি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। সেই সম্পর্কের ইতি ঘটার পর থেকেই তিনি চাপে ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে তিনি একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও সে সময় তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। তবে তাঁর মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত ডায়েরি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পড়াশোনা ও ইউটিউব জগৎ
বোনু কোমালি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং হায়দরাবাদের একটি কলেজে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইউটিউবে লাইফস্টাইল ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। অল্প বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছিল তাঁর।
পরিবারের দাবি, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক
ঘটনার পর পরিবার গভীর শোকাহত। তাঁরা চান, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং যদি কোনও প্ররোচনা বা মানসিক নির্যাতনের বিষয় সামনে আসে, তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন ও মানসিক চাপ কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ বা চরম হতাশার লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া উচিত।