মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। এই খবরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজধানী তেহরান ও তার আশপাশের একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় নিশানা করে হামলা চালানো হয়। সেই হামলার জেরেই খামেনেই গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এখনও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তবুও ইরানের তরফে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রশাসন এই হামলাকে ‘নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মূল কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইজরায়েলও জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনেইয়ের মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। তিনি শুধু দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নন, বরং সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব ছিল সর্বাধিক। তাঁর অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে—বিশেষত তেলের দামে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভারত-সহ একাধিক দেশ পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার জন্য দূতাবাস প্রস্তুত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে নাকি কূটনৈতিক আলোচনার পথে সমাধান খোঁজা হবে—এখন সেটাই সময়ের অপেক্ষা। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।