পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোট ২৬ জন ভোটারের নাম ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও তাঁরা সকলেই জীবিত। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।
কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
সম্প্রতি স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা হাতে পাওয়ার পরই কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, তাঁদের পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীদের নাম তালিকায় নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁদের ‘ডিলিটেড’ বা ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ২৬ জনের মধ্যে প্রবীণ নাগরিক যেমন রয়েছেন, তেমনই মধ্যবয়স্ক পুরুষ ও মহিলারাও আছেন। কেউই জানতেন না যে তাঁদের নাম এমনভাবে বাদ পড়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জীবিত, তবু কাগজে-কলমে আমাদের মৃত দেখানো হয়েছে! এটা কীভাবে সম্ভব?”
এলাকায় বিক্ষোভ
ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচন দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ভুল সংশোধন করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এক বাসিন্দার কথায়, “ভোটাধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। যদি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাম কেটে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, গুরুতর অবহেলা।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় নির্বাচন আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট ফর্ম জমা দিয়ে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনে ব্লক বা জেলা নির্বাচন দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একসঙ্গে এতজন জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হল? প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। বিরোধী দলগুলির দাবি, ভোটার তালিকা প্রস্তুতির সময় যথাযথ যাচাই করা হয়নি। অন্যদিকে শাসকদল বলছে, প্রক্রিয়াগত ভুল হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উত্তাপ বাড়াতে পারে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ পদক্ষেপ জরুরি।
ভোটারদের করণীয়
যাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’ বা ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁরা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন। প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও নথি সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করলে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় প্রশ্ন
ভোটার তালিকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেখানে ভুল তথ্য বা অবহেলা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। জলপাইগুড়ির এই ঘটনা তাই শুধুমাত্র একটি জেলার সমস্যা নয়, বরং গোটা রাজ্যের জন্য সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ২৬ জনের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত হয় কি না। এলাকাবাসীর একটাই দাবি— “জীবিত মানুষকে মৃত বানানো যাবে না, ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতেই হবে।”