নিউ আলিপুরদুয়ার রেল স্টেশনের সিমেন্ট ইয়ার্ডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

আলিপুরদুয়ার: নিউ আলিপুরদুয়ার রেল স্টেশনের সিমেন্ট ইয়ার্ডে কাজ করতে গিয়ে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। কাজের সময় ট্রাকের চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহকর্মী শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, New Alipurduar Junction railway station সংলগ্ন সিমেন্ট ইয়ার্ডে নিয়মিতভাবেই রেল রেক থেকে সিমেন্ট নামানোর কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে একটি সিমেন্টবোঝাই রেক ইয়ার্ডে পৌঁছয়। শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতোই সিমেন্ট খালাসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় আচমকাই একটি ট্রাক পিছিয়ে বা এগিয়ে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে অভিযোগ।

এই সময় রবিদুল মিয়া নামে এক শ্রমিক ট্রাকের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি ট্রাকের চাকার তলায় চাপা পড়ে যান। সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় কোনও নির্দিষ্ট গাইডলাইন মানা হয় না বলেও দাবি তাঁদের। অনেক সময়ই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, যেমন হেলমেট, সেফটি জ্যাকেট বা সিগন্যালিং ব্যবস্থার অভাব থাকে।

রেল পুলিশ ও স্থানীয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ট্রাকচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও সূত্রের খবর।

সহকর্মী শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সিমেন্ট ইয়ার্ডে কাজের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, কিন্তু সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলল কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে। ভারী মালামাল খালাসের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কঠোর নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শোকস্তব্ধ মৃত শ্রমিকের পরিবার। এলাকার মানুষ ও সহকর্মীরা দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these