মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, SIR নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল এলাকায় ধর্না মঞ্চ তৈরি করা হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত থাকেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মীরা এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন। গোটা এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় বহু মানুষের নাম অযথা বাদ পড়েছে বা ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোটাররা সমস্যায় পড়ছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি শাসকদলের। এই বিষয়েই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে মানুষের ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনওভাবে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় বা তাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার যথাযথ সমাধান হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই ইস্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনতে।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির দাবি, এই ধর্না মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। অতীতে নানা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে এই এলাকা। বিশেষ করে ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ও এখানেই দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি করেছিলেন Mamata Banerjee। সেই স্মৃতিবাহী জায়গাতেই আবার ধর্নায় বসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই।

ধর্নাকে ঘিরে গোটা ধর্মতলা এলাকায় জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ও তার জেরে এই ধর্না কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these