১ এপ্রিল নয়, তার আগেই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ১৫০০ টাকা, বড় ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের টাকা কবে থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এই প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে পরিকল্পনা ছিল আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়তে পারে। এই ঘোষণা সামনে আসতেই রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প মূলত সেইসব যুবক-যুবতীদের জন্য চালু করা হয়েছে যারা পড়াশোনা শেষ করেও এখনও স্থায়ী চাকরি পাননি। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তও রয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বয়স সাধারণত ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। এছাড়াও আবেদনকারীর নিজের নামে একটি সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ সেখানেই সরাসরি সরকারি ভাতা পাঠানো হবে।

সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ভাতা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে অথবা আবেদনকারী যতদিন না পর্যন্ত স্থায়ী চাকরি বা নিয়মিত আয়ের উৎস পাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত এই সহায়তা চালু থাকতে পারে। এর মাধ্যমে বেকার যুবকদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই বহু যুবক-যুবতী এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই আশা করছেন, এই প্রকল্প তাদের দৈনন্দিন খরচ বা চাকরির প্রস্তুতির সময় কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেবে।

মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন কবে থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা জমা পড়বে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণা ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজ্যের যুব সমাজকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। আবার অনেকের মতে, বেকার সমস্যার সমাধান করতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও সমানভাবে জরুরি।

তবে আপাতত রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতীর কাছে এই প্রকল্প কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন সকলের নজর রয়েছে কবে থেকে বাস্তবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের টাকা জমা পড়া শুরু হয়।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these