মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আবহে ইরানের রাজধানী তেহরানে তেল সংরক্ষণাগারে একাধিক বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়া ও রাসায়নিক গ্যাসের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ‘বিষাক্ত বৃষ্টি’ হওয়ার খবর সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে কালচে তেলজাতীয় পদার্থ পড়তে দেখা গেছে, যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত কয়েকটি বড় তেল সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর তেল ট্যাঙ্কারগুলিতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই আগুন জ্বলতে থাকে। আগুন থেকে নির্গত বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে মিশে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধোঁয়ার মধ্যে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস মেঘের সঙ্গে মিশে পরে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে পড়তে পারে, যার ফলে তৈরি হয় তথাকথিত ‘টক্সিক রেন’ বা বিষাক্ত বৃষ্টি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিস্ফোরণের পর তেহরানের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার আস্তরণ তৈরি হয়। অনেক এলাকায় দিনের আলোতেও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানান, বৃষ্টির পরে গাড়ি, বাড়ির ছাদ এবং রাস্তার উপর কালো তেলের মতো দাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, এমন বৃষ্টির জল সরাসরি শরীরে লাগলে ত্বকের সমস্যা, চোখে জ্বালা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে।
ইরানের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়া দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কিছু এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
তেল ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শিল্প বা তেল সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণ হলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে সেই রাসায়নিক পদার্থ মাটি ও পানির উৎসেও মিশে যেতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বর্তমানে তেহরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দল কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই দূষণের প্রভাব আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।