দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আপাতত বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই সরকার গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, তেল শোধনাগারগুলিকে প্রোপেন এবং বিউটেন থেকে সর্বাধিক পরিমাণ এলপিজি উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গ্যাস যাতে অন্য শিল্প বা পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত এলপিজি মূলত গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশে গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহ মূলত তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়— Indian Oil Corporation, Bharat Petroleum এবং Hindustan Petroleum। এই সংস্থাগুলিই সাধারণ মানুষের ঘরে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং পরিষেবা, ছোট কারখানা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর। কারণ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মূলত এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলিতেই ব্যবহার করা হয়। গ্যাস সরবরাহ সীমিত হয়ে গেলে অনেক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই কারণে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।