নির্মাণস্থলে মৃত্যু ফাঁদ! গুরগাঁওয়ে দেয়াল ধসে ৭ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত একাধিক

হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে নির্মাণাধীন একটি আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুরগাঁওয়ের একটি বড় আবাসন প্রকল্পে নিকাশি পরিশোধন প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় সেখানে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই নির্মীয়মাণ একটি উঁচু কংক্রিটের দেয়াল ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিশাল পরিমাণ কংক্রিট ও মাটি নিচে কাজ করা শ্রমিকদের ওপর ভেঙে পড়ে। ফলে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হয় ভারী যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একে একে শ্রমিকদের বের করে আনা হয়। তবে তাদের মধ্যে সাতজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে আহত শ্রমিকদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। এরপরই জানা যায় নির্মাণস্থলের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, নির্মাণকাজ চলাকালীন মাটির চাপ বা কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। নির্মাণ সংস্থার তরফে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। মৃত শ্রমিকদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these