ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে জ্বালানি সঙ্কট, সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতেও পড়তে শুরু করেছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে দেশে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে ডিজেল ও পেট্রোলের চাহিদা বেড়ে যায় এবং কিছু এলাকায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।

এই অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান জ্বালানি সহযোগিতার চুক্তির ভিত্তিতে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যাতে করে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং পরিবহণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্যা না হয়।

জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে অতিরিক্ত মজুত বা আতঙ্কে বেশি কেনাকাটা বন্ধ করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের অন্যতম বড় উৎস। সেই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তেলের পরিবহণ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে যেসব দেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রেও জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইপলাইন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। সেই কারণেই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়তে পারে। তাই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং কৌশলগত মজুত বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি পড়তে পারে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ। তবে প্রতিবেশী দেশগুলির সহযোগিতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these