কার্গো জাহাজে বিস্ফোরণ, হরমুজে মাইন মোতায়েনের খবর; বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার এই সংঘাত ১২তম দিনে পৌঁছেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এখনও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সতর্কতামূলক সাইরেনের শব্দে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বুধবারও একাধিক এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠার খবর মিলেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আকাশপথে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান বরাবরই সতর্কবার্তা দিয়ে এসেছে যে, প্রয়োজনে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিতে পারে। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এই হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি ব্রিটিশ কার্গো জাহাজে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর সামনে আসে। সমুদ্রপথে ওই বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরে ইরানের তরফে জানানো হয়, ওই অঞ্চলে একাধিক মাইনবোঝাই নৌকা মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের ১৬টি নৌকা ধ্বংস করেছে। যদিও একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ওই সমুদ্রপথে বিস্ফোরক বিছিয়ে রাখা হয়েছে এমন প্রমাণ এখনও মেলেনি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি মাইন পোঁতা হয়েছে। তবে এর পিছনে সরাসরি ইরানের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে পড়তে পারে। কারণ বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এই পথ যদি কোনও কারণে অচল হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা এই সংঘাত এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উত্তেজনা কতটা কমে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these