কাবুল: আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের নতুন ফৌজদারি আইন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই আইন অনুযায়ী, স্বামী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্ত্রী বা সন্তানকে শারীরিকভাবে শাস্তি দিতে পারবে—তবে শর্ত হলো এতে গুরুতর আঘাত, যেমন হাড় ভাঙা বা খোলা ক্ষত সৃষ্টি হওয়া যাবে না।
আইনের এই ধারা সামনে আসতেই মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই বিধান কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করছে।
কী বলা হয়েছে নতুন আইনে
নতুন বিধি অনুযায়ী, পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে স্বামী বা অভিভাবক সীমিত শারীরিক শাস্তি দিতে পারে। তবে সেই শাস্তির ফলে যদি গুরুতর আঘাত—যেমন হাড় ভাঙা, রক্তক্ষরণ বা স্থায়ী ক্ষতি—হয়, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তি হতে পারে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
নারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ
তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারীদের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই নতুন আইন সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নারী অধিকার কর্মীদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, অনেক নারীই সামাজিক চাপ ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ জানাতে সাহস পাবেন না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যেই এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, আধুনিক আইনি কাঠামোর সঙ্গে এই ধরনের বিধান সাংঘর্ষিক এবং এটি নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকা জরুরি, যাতে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
তালিবান সরকারের অবস্থান
অন্যদিকে তালিবান প্রশাসনের একাংশ দাবি করেছে, আইনটি পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গুরুতর সহিংসতার ক্ষেত্রে আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই কারণে এটিকে সহিংসতা বৈধ করার আইন বলা ঠিক নয়।
বিতর্ক অব্যাহত
তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আইন নারীদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, ভবিষ্যতে এই আইন বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর প্রভাব আফগান সমাজে কতটা পড়ে।