তেলেঙ্গানায় এক অনগ্রসর বর্ণের পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, নবজাতক শিশুকে আশীর্বাদ করাতে মন্দিরে যাওয়ার পর প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার কয়েকদিন পরই পরিবারের দুই বছরের শিশুর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাদের শিশুকে নিয়ে একটি স্থানীয় মন্দিরে গিয়েছিলেন আশীর্বাদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর মন্দিরে প্রবেশের আগে তাদের কাছে ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারটি সেই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, এরপর উপস্থিত কয়েকজন উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ওই পরিবারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিবারের পুরুষ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের বক্তব্য, যখন ওই ব্যক্তির স্ত্রী তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তখন হামলাকারীরা তাদের উপর লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তারা ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান। সেই সময় শিশুটি তার মায়ের কোলে ছিল বলে জানা গেছে।
এছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে সোনার কানের দুল, রূপার চুড়ি এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার তিন দিন পর পরিবারের দুই বছরের শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় শিশুটি আঘাত পেয়েছিল এবং সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সন্দেহজনক মৃত্যুর মামলা হিসেবে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
এই ঘটনায় সামাজিক বৈষম্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনগুলির একাংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।