পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ এবং আবেগঘন সম্ভাবনা—আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় নিহত তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র মা কি এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘অভয়া’র মা-কে সামনে আনার পরিকল্পনা করছে দল। যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি, তবুও এই সম্ভাবনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়েছে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই ‘অভয়া’র পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব ছিল। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা-বাবা। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না মেলায় তাঁদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই এবার রাজনৈতিক ময়দানে নামার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন ‘অভয়া’র মা। তিনি মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা এবং পরিবর্তন আনা কঠিন।
এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে সম্প্রতি বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহের ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ। ব্যারাকপুর এলাকার এই প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতি এবং দীর্ঘ আলোচনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।
অন্যদিকে, পানিহাটি কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বাম শিবিরও নিজেদের প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। ফলে এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘অভয়া’র মা যদি বিজেপির প্রার্থী হন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের মুখদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার প্রবণতা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের আবেগ এবং সমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করার সুযোগ তৈরি হয়। ‘অভয়া’র মায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীপদ সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ হতে পারে।
তবে এই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সবটাই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তবুও এই খবর ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, পানিহাটি কেন্দ্রকে ঘিরে এই সম্ভাবনা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর থাকবে বিজেপির পরবর্তী প্রার্থী তালিকার দিকে—সেখানেই পরিষ্কার হবে ‘অভয়া’র মা সত্যিই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন কিনা।