রমজান মাসের শেষ পর্যায়ে এসে ঈদ-উল-ফিতরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এবছর সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে ঈদের তারিখে। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার চাঁদ না দেখা যাওয়ায় রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং সেই অনুযায়ী শুক্রবার ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হবে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই ইসলামিক মাসের সূচনা নির্ধারিত হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী, শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রোজার শেষ দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে এবং শুক্রবার ঈদের নামাজ ও উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই নজর ঘুরেছে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির দিকে। ভারতে ঈদ উদযাপনের দিন নির্ভর করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাঁদ দেখার উপর। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ঈদ উদযাপন করা হয়। ফলে এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারতে ঈদ পড়তে পারে শনিবার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায় কিনা তার উপর।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদ দেখার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন রাজ্যে ও শহরে আলাদা আলাদা চাঁদ দেখা কমিটি এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং তার ভিত্তিতেই ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ফলে একেক দেশে বা অঞ্চলে একদিনের পার্থক্য হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বাজারে কেনাকাটার ভিড় বেড়েছে। পোশাক, খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ ছাড় ও অফার ঘোষণা করেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বড় বড় মসজিদ ও ঈদগাহে নামাজের আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করা যায়।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবে চাঁদ না দেখা যাওয়ার কারণে ঈদের তারিখে সামান্য পরিবর্তন এলেও উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়েনি। এখন ভারতের আকাশে চাঁদ দেখার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। চাঁদ দেখা গেলেই নির্ধারিত হবে দেশের ঈদের দিন, আর সেই সঙ্গে শুরু হবে খুশির উৎসব।