রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার আগে ১৪৪টি কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় বার্তা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রকাশিত তালিকায় কোচবিহার উত্তর (উত্তর) কেন্দ্র থেকে সুকুমার রায়, মাথাভাঙা (উত্তর) থেকে সাবিত্রী বর্মন, দিনহাটা থেকে অজয় রায়, তুফানগঞ্জ থেকে মালতী রায় রায়, কুমারগ্রাম (তপশিলি জনজাতি) থেকে মনোজকুমার ওরাওঁ, কালচিনি (তপশিলি জনজাতি) থেকে বিশ্বা লামা, আলিপুরদুয়ার থেকে পরিতোষ দাস, ফালাকাটা (তপশিলি জাতি) থেকে দীপক বর্মন, মাদারিহাট-ফালাকাটা থেকে শীলা চ্যাটার্জি, নাগরাকাটা (তপশিলি জনজাতি) থেকে পূজা ভেঙ্কা এবং জলপাইগুড়ি (তপশিলি জাতি) থেকে অমলেন্দু মিত্র—এইসব নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
দার্জিলিং থেকে ড. নীরজ জোমো, ফাঁসিদেওয়া থেকে দুর্গা মুর্মু, শিলিগুড়ি থেকে রাজীব বিশ্বাস, চোপড়া থেকে মনোজ টিগ্গা, করণদিঘি থেকে বিজয় বিশ্বাস, ইসলামপুর থেকে উপেন্দ্র নাথ, গোয়ালপোখর থেকে কৌশিক চৌধুরী, চাকুলিয়া থেকে তাপস দাস, করণদিঘি (অন্য অংশ) থেকে অভিষেক সিংহরায়, কালিয়াগঞ্জ (তপশিলি জাতি) থেকে গোপালচন্দ্র সাহা এবং হেমতাবাদ থেকে নির্মল ঘোষের নামও তালিকায় রয়েছে।
রায়গঞ্জ, ইটাহার, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ, তপন, হাবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক, মালদহ, মথুরাপুর, সুজাপুর, হরিশচন্দ্রপুর, খড়গ্রাম, নবগ্রাম, সাগরদিঘি, লালগোলা, ভগবানগোলা, মুর্শিদাবাদ, জলঙ্গি, ডোমকল, রানীনগর, করিমপুর, তেহট্ট, পালাশীপাড়া, কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণ, নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, চাকদহ, কল্যাণী, হরিণঘাটা—প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই বিজেপি তাদের সংগঠনের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ করেছে।
একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে যেমন বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, বিজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাসাত, দেগঙ্গা, হরোয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, কুলপি, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, মহেশতলা, বজবজ—প্রতিটি জায়গাতেই নতুন ও পুরনো মুখের মিশ্রণ দেখা গেছে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যেমন মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, কলকাতা উত্তর, শ্যামবাজার, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শিয়ালদহ, কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, রামনগর, এগরা, দিঘা, খড়গপুর, সবং, নারায়ণগড়, ডেবরা, পিংলা, দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, কেশপুর, গড়বেতা, শালবনি, মেদিনীপুর, খড়গপুর সদর, নরায়ণগড়, কাঁথি, এগরা, দিঘা, খড়গপুর সদর প্রভৃতি এলাকাতেও প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি।
তালিকায় রণজিৎ ঘোষ, অমিতাভ সরকার, গৌতম সরকার, বরুণ সাহা, দিব্যেন্দু দাস, চন্দ্রশেখর মজুমদার, রাজা সাহা, অনুপ ঘোষ, অমল সাহা, তপন পাল, তন্ময় ঘোষ, কণিকা সাহা, জয়দেব চৌধুরী, চন্দ্রদেব বাগচী, অনুপম দাস, অরিন্দম মল্লিক, ডা. প্রবীর চক্রবর্তী, অনির্বাণ পাল, অমিয় সাহা, তন্ময় দাস, প্রভাত দত্ত, সঞ্জয় দাস, তপন দত্ত, সুভাষ সরকার, সুজিত দাস, দেবাশিস ঘোষ, অমলেন্দু দত্ত, অমিত সরকার, বিকাশ সরকার, সুধীর সরকার, অসীম সরকার, অনুপম চক্রবর্তী, প্রদীপ ঘোষ, গৌতম রায়, সঞ্জয় রায়, তন্ময় চ্যাটার্জি, পরেশ সিংহ, সঞ্জীব ঘোষ, তরুণকান্তি ঘোষ, নারায়ণ চক্রবর্তী, বিকাশ মজুমদার, সুশীল চৌধুরী, ডা. তরুণ দাস, অমিতাভ মিত্র, সঞ্জয় সিংহ, অরিন্দম দাস, কৌশিক রায়, তন্ময় দাসসহ বহু পরিচিত ও নতুন মুখ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় সংখ্যক আসনে একযোগে প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি তাদের সংগঠনিক প্রস্তুতির শক্ত বার্তা দিয়েছে। তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ নেতৃত্ব রয়েছে, তেমনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নতুন প্রার্থী এনে ভোটারদের কাছে নতুন বিকল্প তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে, প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে প্রচার কর্মসূচি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ স্পষ্ট, এবং প্রতিটি প্রার্থী নিজেদের এলাকায় সংগঠনকে আরও মজবুত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন।
সব মিলিয়ে, ১৪৪টি আসনে এই বিশদ প্রার্থী তালিকা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর বিরোধী দলগুলির পাল্টা প্রার্থী তালিকা এবং তার প্রভাবের দিকে।