২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশিত নির্বাচনী রূপরেখায় সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনমুখী প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ইস্তেহারের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলা, যুবসমাজ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান। ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা মহিলাদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, যুবদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প ‘যুব সাথী’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) প্রদান করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার এই আর্থিক প্যাকেজ লক্ষাধিক কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের উপকারে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্তেহার মূলত জনমুখী এবং সামাজিক সুরক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ককে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে।
তবে বিরোধী দলগুলিও ইতিমধ্যেই এই ইস্তেহারকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, এসব ঘোষণা শুধুমাত্র ভোটের আগে মানুষের মন জয় করার কৌশল।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে তৃণমূলের উন্নয়ন ও ভাতার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ—এই লড়াই যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।