কোর্ট ছেড়ে কি এবার রাজনীতির কোর্টে? বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক, লিয়েন্ডার পেজকে ঘিরে জোর জল্পনা

বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন এক চমক। ভোটের আগে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল এক অপ্রত্যাশিত নাম—টেনিস দুনিয়ার কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। কোর্টে অসংখ্য জয় এনে দেওয়া এই তারকা কি এবার রাজনীতির ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন? সম্প্রতি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসতেই এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়।

সূত্রের খবর, কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন লিয়েন্ডার পেজ। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বৈঠকটি ছিল বেশ কিছুক্ষণ ধরে এবং তা ঘিরেই জল্পনা তৈরি হয়েছে—এ কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠককে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। প্রতিটি রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নতুন মুখকে সামনে আনতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদের রাজনৈতিক ময়দানে প্রবেশ নিঃসন্দেহে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, লিয়েন্ডার পেজের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, যখন দলের পক্ষ থেকে গোয়ায় সংগঠন বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে দীর্ঘদিন তিনি কার্যত সক্রিয় রাজনীতির বাইরে ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তাহলে কি তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চলেছেন? এবং যদি তা-ই হয়, তবে কি তিনি শিবির বদল করতে চলেছেন?

বিজেপি সূত্রে যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলের অন্দরে কানাঘুষো, রাজ্যে দলের প্রচারে নতুন মুখ হিসেবে লিয়েন্ডার পেজকে সামনে আনার পরিকল্পনা করা হতে পারে। বিশেষ করে শহুরে শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে দল। পাশাপাশি তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি দলীয় ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, শুধু প্রচারেই নয়, তাঁকে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়েও নামানো হতে পারে। যদিও এই সম্ভাবনা এখনও নিশ্চিত নয়, তবুও তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, অতীতে একাধিক ক্রীড়াবিদকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রার্থী করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা সফলও হয়েছে।

এই পুরো ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—সময় নির্বাচন। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের বৈঠক সাধারণত কাকতালীয় হয় না। বরং তা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হয়। ফলে লিয়েন্ডার পেজকে ঘিরে এই জল্পনা যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি সত্যিই লিয়েন্ডার পেজ বিজেপিতে যোগ দেন, তবে তা প্রতিপক্ষের জন্য একটি প্রতীকী ধাক্কা হতে পারে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল কম নয়। অনেকেই মনে করছেন, ক্রীড়াজগতের একজন সফল ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে এলে তা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে। আবার অন্য একাংশের মতে, রাজনীতি এবং খেলাধুলা সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্র—এখানে সাফল্য পেতে গেলে আলাদা ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, লিয়েন্ডার পেজকে ঘিরে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এখন বাংলার নির্বাচনী আবহে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি কি সত্যিই বিজেপিতে যোগ দেবেন? নাকি এই বৈঠক শুধুই একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের চমকপ্রদ সম্ভাবনা রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এখন সব নজর আগামী কয়েক দিনের দিকে। লিয়েন্ডার পেজ নিজে এই বিষয়ে মুখ খুলবেন কি না, সেটাই দেখার। কারণ, তাঁর একটিমাত্র সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির ছবি।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these