চট্টগ্রাম/কলকাতা:
আজ, ১২ জানুয়ারি ২০২৬—ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম, বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের শহিদ দিবস। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের জন্য আজও তিনি বাঙালি ও ভারতবাসীর স্মৃতিতে অমলিন। ১৯৩৪ সালের এই দিনেই নির্মম অত্যাচারের পর ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল।
মাস্টারদা সূর্য সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মেরুদণ্ড ভাঙতেই তিনি তরুণ বিপ্লবীদের সংগঠিত করে সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বিপ্লবীরা টেলিগ্রাফ ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে, অস্ত্রাগার দখলের মাধ্যমে স্বাধীনতার আগুন ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
গ্রেফতারের পর মাস্টারদার উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। তবুও তিনি নিজের আদর্শ থেকে একচুলও সরেননি। কারাগারে দাঁড়িয়েও তিনি ছিলেন অবিচল, দৃঢ়চেতা ও আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন।
আজকের দিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এই মহান বিপ্লবীকে। চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা—বিভিন্ন জায়গায় স্মরণসভা, মাল্যদান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মাস্টারদার আদর্শ ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, মাস্টারদা সূর্য সেন শুধু একজন বিপ্লবী নন, তিনি ছিলেন সাহস, নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁর জীবন আজও দেশের যুবসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে।
শহিদ দিবসে জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে সেই বিপ্লবীকে, যিনি হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠে বলেছিলেন—স্বাধীনতার স্বপ্ন কোনওদিন মরে না।