কিশোর–কিশোরীদের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অপরাধের আওতায় ফেলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে এবার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, শিশুদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত POCSO আইনে একটি সম্ভাব্য ‘রোমিও–জুলিয়েট’ ধারা যুক্ত করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার জন্য।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাম্প্রতিক সময়ে এমন একাধিক মামলা সামনে এসেছে যেখানে কিশোর–কিশোরীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককেও কঠোর আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অমতে সম্পর্ক হওয়ায় বা সামাজিক চাপের কারণে আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে সম্পর্ক ভাঙার হাতিয়ার হিসেবে। এই পরিস্থিতিতে আইনের মূল উদ্দেশ্য—শিশুদের সুরক্ষা—ব্যাহত হচ্ছে বলে মত আদালতের।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, বয়সের খুব বেশি ফারাক নেই এমন কিশোর–কিশোরীর মধ্যে যদি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাহলে সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত নয়। আদালত মনে করছে, এই ধরনের মামলায় বিচারিক সংবেদনশীলতা জরুরি। নচেৎ, অল্প বয়সে আবেগের বশে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জন্য কিশোরদের সারাজীবনের জন্য অপরাধীর তকমা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।
আদালত আরও জানিয়েছে, ‘রোমিও–জুলিয়েট’ ধারা থাকলে প্রকৃত শিশু নির্যাতনের মামলা এবং সম্মতিপূর্ণ কিশোর সম্পর্ক—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা সহজ হবে। একই সঙ্গে, আইনের অপব্যবহারও অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সর্বোচ্চ আদালত।
এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই আইনি ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। একাংশের মতে, এতে কিশোরদের ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে এবং অযথা হয়রানি কমবে। আবার অন্য একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আইন শিথিল হলে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস নয়—শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই পর্যবেক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।
এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই পরামর্শের পর কেন্দ্রীয় সরকার POCSO আইনে কোনও সংশোধনী আনার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে বড় আইনি পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।