পাটনা:
যেখানে একদিকে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী খান স্যার। পাটনায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘খান স্যার হাসপাতাল’ আজ সাধারণ মানুষের ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
এই হাসপাতালে চালু হয়েছে সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহণের জন্য এক টাকাও গুনতে হচ্ছে না পরিবারকে। হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ীভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, যেখানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরাও উপস্থিত থাকেন।
শুধু অ্যাম্বুলেন্সই নয়, চিকিৎসা পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
হাসপাতালে—
রক্ত পরীক্ষা মাত্র ২৭ টাকায়
ইসিজি (ECG) পরীক্ষা মাত্র ২৫ টাকায়
এই স্বল্পমূল্যের পেছনে রয়েছে একটাই উদ্দেশ্য—চিকিৎসা যেন গরিব মানুষের নাগালের বাইরে না যায়।
খান স্যার নিজে জানিয়েছেন, তাঁর এই উদ্যোগ কোনও ব্যবসায়িক লাভের জন্য নয়। তিনি মনে করেন, “চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। টাকা না থাকার কারণে যেন কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে যেখানে সাধারণ পরীক্ষা করতেই হাজার হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে খান স্যার হাসপাতাল কার্যত গরিব মানুষের আশীর্বাদ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ সরকার ও সমাজ—দু’পক্ষের কাছেই এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মানবিক চিন্তাভাবনা থাকলে সীমিত সামর্থ্যেও বৃহৎ পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।
বর্তমান সময়ে যখন চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন খান স্যারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক মানবিক বিকল্প মডেল হিসেবে নজির গড়ল।
লাভ নয়, মানুষের সেবাই যে প্রকৃত লক্ষ্য—এই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরল ‘খান স্যার হাসপাতাল’।