নয়াদিল্লি: দেশের যুবসমাজ আজ আর শুধু চাকরির খোঁজে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সমাজ ও দেশের বাস্তব সমস্যাগুলির সমাধানে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসছে—এমন মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম এখন উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে কাজ করছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি ও শিক্ষাকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করছে। স্টার্টআপ, ডিজিটাল উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্র—সব ক্ষেত্রেই যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে। তিনি বলেন, “আজকের যুবসমাজ কেবল সুযোগের অপেক্ষায় নেই, তারা নিজেরাই সুযোগ তৈরি করছে।”
নরেন্দ্র মোদি আরও জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যুবসমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই উদ্যোগগুলির ফলে তরুণরা নতুন দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্বনির্ভর উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হল যুবসমাজ। তাদের চিন্তাভাবনা ও কাজের মধ্যেই ভারতের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পসংস্থা এবং প্রশাসনের মধ্যে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে তরুণ প্রতিভাকে সঠিক দিশা দেওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের উদ্ভাবনী শক্তি ও ইতিবাচক মানসিকতা দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্য দেশের যুবসমাজের প্রতি সরকারের আস্থারই প্রতিফলন। বাস্তব সমস্যার সমাধানে তরুণদের এই এগিয়ে আসা আগামী দিনে ভারতের উন্নয়ন যাত্রাকে আরও গতি দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।