স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে ASHA কর্মীরা, পুলিশের ব্যারিকেডে উত্তেজনা; যান চলাচল বিপর্যস্ত সল্টলেক জুড়ে

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ASHA কর্মীদের আন্দোলনে ফের উত্তাল কলকাতা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে নামেন শতাধিক ASHA কর্মী। বেতন বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে তাঁদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক পুলিশি সতর্কতা জারি করা হয়।

সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের চারপাশে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। নিকোপার্ক, ওয়েবল মোড়, সেক্টর ফাইভ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঘিরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্য ভবনের মূল ফটকের কাছে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদী ASHA কর্মীদের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হয়েও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের দাবি,

ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী,

স্থায়ী কর্মীর স্বীকৃতি,

পেনশন ও স্বাস্থ্য বিমা,

কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ।

আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে তাঁদের প্রাপ্ত সামান্য ভাতা দিয়ে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি কোভিড পরবর্তী সময়ে কাজের চাপ বহুগুণ বাড়লেও সেই অনুযায়ী কোনও আর্থিক স্বীকৃতি মেলেনি।

এই কর্মসূচির জেরে সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বহু অফিসগামী মানুষকে বিকল্প রাস্তায় ঘুরে যেতে হয়। ট্রাফিক পুলিশ একাধিক রুট ডাইভার্ট করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কর্মীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে ঢুকতে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়। যদিও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও তাঁদের অযথা বাধা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ASHA কর্মীদের প্রথম আন্দোলন নয়। এর আগেও একাধিকবার তাঁরা রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আন্দোলন রাজ্যের স্বাস্থ্য নীতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলায়, সেদিকেই এখন নজর।

বর্তমানে স্বাস্থ্য ভবন ও আশপাশের এলাকা পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these