পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বোমা হামলার হুমকি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

পুরীর বিশ্ববিখ্যাত শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট সামনে আসতেই প্রশাসনের তৎপরতায় তোলপাড় শুরু হয় মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায়। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একজন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করে জগন্নাথ মন্দিরে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়। শুধু মন্দিরই নয়, ওই পোস্টে পুরী শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নামও উল্লেখ ছিল বলে দাবি। পোস্টটি ভাইরাল হতেই আতঙ্ক ছড়ায় ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

খবর পেয়ে পুরী জেলা পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং গোয়েন্দা বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মন্দিরের প্রতিটি প্রবেশপথে বাড়ানো হয় নজরদারি। তল্লাশি চালানো হয় মন্দির চত্বর, আশপাশের রাস্তা, পার্কিং এলাকা এবং সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায়। যদিও প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবুও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুমকিমূলক পোস্টটি যিনি করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হুমকির পেছনে সত্যিই কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে নাকি এটি গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি আরও কড়া করা হয়েছে। প্রত্যেক ভক্তকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত মন্দির দর্শনে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।

পুরী জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “জগন্নাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র। কোনও হুমকিকেই হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

এই ঘটনার জেরে ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও উস্কানিমূলক পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনও তথ্য সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দির চত্বর ও পুরী শহরে বাড়তি পুলিশি নজরদারি বজায় থাকবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these