এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ১১ বছরের এক কিশোর। বাড়ির কাছেই থাকা খোলা নর্দমায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই বালকের। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসনের চরম গাফিলতিকে দায়ী করে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে বাড়ির কাছেই বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল ওই নাবালক। খেলার এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত রাস্তার ধারে থাকা একটি খোলা নর্দমার মধ্যে পড়ে যায় সে। নর্দমাটিতে কাদা, নোংরা জল ও বর্জ্য জমে থাকায় ভিতরে পড়ার পর বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর উদ্ধার, কিন্তু রক্ষা হয়নি প্রাণ
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর নর্দমার ভিতরে শিশুটিকে দেখতে পান। তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই নর্দমাটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, নর্দমার উপর ঢাকনা বা সতর্কতামূলক কোনও চিহ্ন থাকলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
আগেও ঘটেছে একই ধরনের দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই এলাকায় খোলা নর্দমায় পড়ে দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসের শুরুতেই একই অঞ্চলে পাঁচ মাসের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন যে কার্যত নির্বিকার, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“বাচ্চারা প্রতিদিন এই রাস্তায় খেলাধুলা করে। নর্দমাগুলি খোলা থাকায় যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ কথা আমরা আগেই জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ শুনেনি।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত শিশুর পরিবার। তাঁদের দাবি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—
দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নয়, আগেই সতর্কতা কেন নেওয়া হয়নি?
নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনার পর ফের একবার সামনে এল শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক নিরাপত্তার বেহাল চিত্র। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শোকাহত পরিবার এখন একটাই দাবি তুলেছে—
দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শিশুকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, তার জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ।