নয়াদিল্লি:
প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সামরিক সম্মানপ্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অসামান্য অবদানের জন্য বিশিষ্ট সেবা পদক (Vishisht Seva Medal) পাচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল Sofiya Qureshi। এই সম্মান তাঁকে দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান পরিষেবা, কৌশলগত দক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে।
সামরিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের একজন অভিজ্ঞ অফিসার। আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় যোগাযোগ ও কৌশলগত সমন্বয় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বাস্তবে প্রমাণ করেছেন তিনি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্বে তাঁর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।
জাতির সামনে সাহসী মুখ
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের সময় কর্নেল কুরেশি দেশের সামনে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং পেশাদারিত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আস্থা তৈরি করে। সামরিক ক্ষেত্রে একজন মহিলা অফিসার হিসেবে এই ভূমিকা তাঁকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রতিনিধিত্ব
কেবল দেশীয় ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়াতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়, কৌশলগত আদান-প্রদান এবং নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
বিশিষ্ট সেবা পদকের তাৎপর্য
বিশিষ্ট সেবা পদক ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্মান। উচ্চমানের পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তায় বিশেষ অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে এই সম্মান ঘোষণা করা হয়।
অনুপ্রেরণার প্রতীক
কর্নেল সোফিয়া কুরেশির এই স্বীকৃতি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত অসংখ্য মহিলা অফিসারের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা যে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, তাঁর এই সম্মান তারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬-এর প্রাক্কালে কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত দেশবাসীর কাছে সেনাবাহিনীর ত্যাগ, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেই ধরা থাকল।