কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার দিনেই শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা খেল বিনিয়োগকারীরা। শনিবার বাজার খোলার পর থেকেই অস্থিরতা দেখা যায় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল চিহ্নে আরও গভীরে ঢুকে পড়ে সূচকগুলি। দিনের লেনদেনে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়, অন্যদিকে জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ঘোরাফেরা করে ২৫,৩০০ পয়েন্টের কাছাকাছি।
বাজেট বক্তৃতা চলাকালীন ও তার পরবর্তী সময়ে বাজারে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। বিনিয়োগকারীদের একাংশ বাজেট ঘোষণার কিছু সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে হতাশ হওয়ায় বিক্রির চাপ বাড়ে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
কোন কোন সেক্টরে চাপ
এদিন বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়—
ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা খাতে
তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শেয়ারে
ধাতু ও শক্তি সংক্রান্ত শেয়ারে
একাধিক হেভিওয়েট শেয়ারে বিক্রির চাপ পড়ায় সূচক দ্রুত নীচের দিকে নামে। মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারেও লোকসানের ছবি স্পষ্ট ছিল।
কেন পড়ল বাজার
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা ছিল আরও কিছু তাৎক্ষণিক প্রণোদনা ও করছাড় সংক্রান্ত ঘোষণা। যদিও বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা খুব বড় স্বস্তির বার্তা পাননি। তার জেরেই লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
এছাড়াও বৈশ্বিক বাজারের দুর্বল প্রবণতা এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিক্রির চাপও বাজার পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মত
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাজেট-পরবর্তী প্রথম দিনের এই পতন খুব অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় বাজেট ঘোষণার আগে বাজারে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, তা পূরণ না হলে সাময়িক সংশোধন দেখা দেয়। তাঁদের মতে, বাজেটের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে আগামী কয়েক সপ্তাহে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বাজারের এই অস্থিরতা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মত তাঁদের।
সামনে কী হতে পারে
আগামী দিনে কর নীতির বাস্তব প্রভাব, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সেক্টরে ঘোষিত প্রকল্পগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপরেই নির্ভর করবে বাজারের গতি। আপাতত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বাজার যে চাপে রয়েছে, তা স্পষ্ট।