কলকাতা: শহরের বেহালা এলাকার এক নামী আবাসনে ঘটে গেল রীতিমতো চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। একাধিক দিনে ধাপে ধাপে ফ্ল্যাট থেকে সোনা ও নগদ অর্থ মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে রহস্যের পর্দা তুলল পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই চুরির নেপথ্যে বাইরের কেউ নয়, বরং পরিবারেরই পরিচিত এক ব্যক্তি।
কীভাবে সামনে আসে চুরির ঘটনা
জানা গিয়েছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ফ্ল্যাটের মালিক প্রথমে কিছু সোনার গহনা খুঁজে না পেয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তবে একাধিকবার একইভাবে মূল্যবান সামগ্রী উধাও হতে থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে। পরে হিসেব করে দেখা যায়, সোনা ও নগদ মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এরপরই বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তে বদলে যায় ছবিটা
অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা শুরুতেই বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ চুরি নয়। কারণ ফ্ল্যাটে জোর করে ঢোকার কোনও চিহ্ন ছিল না। ফলে সন্দেহ যায় ঘরের অন্দরেই থাকা কারও দিকে।
পুলিশ আবাসনের ভেতর ও বাইরে থাকা অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হয় সন্দেহভাজনদের মোবাইল কল ডিটেইল রেকর্ড। এই দুই সূত্র মিলিয়েই সামনে আসে এক পরিচিত ব্যক্তির নাম।
পরিচিত মুখেই ধরা পড়ল আসল হোতা
তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিয়মিত ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন এবং ঘরের ভেতরের সবকিছু সম্পর্কে ভালোভাবেই জানতেন। সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সোনা ও নগদ টাকা সরিয়ে ফেলতেন তিনি, যাতে হঠাৎ করে বিষয়টি নজরে না আসে।
পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একসময় সে ভেঙে পড়ে এবং চুরির কথা স্বীকার করে বলে সূত্রের খবর। এরপর তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া সম্পদের একটি অংশ উদ্ধারও করা হয়েছে।
কোথায় রাখা হয়েছিল চুরি যাওয়া সম্পদ
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একাধিক সোনার গয়না ও নগদ অর্থ। তবে এখনও সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার হয়নি। বাকি সম্পদ কোথায় রাখা হয়েছে বা অন্য কেউ এই ঘটনায় যুক্ত আছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশাবাদী, জেরার মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।
আতঙ্কে আবাসিকরা, জোর নিরাপত্তার দাবি
এই ঘটনার পর আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, “পরিচিত মানুষ এমন কাজ করতে পারে, তা ভাবতেই পারিনি।” আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করার দাবিও উঠেছে।
পুলিশের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হবে।
পুলিশের বার্তা
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির চাবি, মূল্যবান সামগ্রী এবং পরিচিতদের উপর অতিরিক্ত ভরসার ক্ষেত্রে সাবধানতা জরুরি।
তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশের ধারণা, এই চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।