দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুর বিজয়গঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, একাধিক দোকান ভস্মীভূত, কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুর এলাকার ব্যস্ত ব্যবসায়িক কেন্দ্র বিজয়গঞ্জ বাজারে ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আচমকা আগুন লাগার ফলে বাজারের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের গ্রাসে পড়ে একের পর এক দোকান, যার জেরে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কীভাবে আগুন ছড়াল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরের দিকে বাজার এলাকা থেকে হঠাৎই ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলিতে। বাজারে অধিকাংশ দোকান কাঠ ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় খুব দ্রুত।

অনেক ব্যবসায়ী তখনও ঘুমের ঘোরে থাকায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে দোকানে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে দোকানের ভেতরে থাকা নগদ টাকা, কাপড়, আনাজ, ফল, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বহু মূল্যবান জিনিস আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

দমকলের তৎপরতা

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দু’টি দমকল ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাজারের একটি বড় অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। দমকল সূত্রে জানা গেছে, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ

প্রাথমিক তদন্তে দমকল ও পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে। বাজার এলাকায় পুরনো বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অস্থায়ী তারের ব্যবহার আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। অনেকের দোকানই ছিল সংসারের একমাত্র রোজগারের উৎস। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় তারা কার্যত সর্বস্বান্ত। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, “এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। দোকানের ভেতরে যা ছিল, সব আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পরিবার চালাব কীভাবে বুঝতে পারছি না।”

হতাহতের খবর নেই, তবে আতঙ্ক ব্যাপক

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা কিছুটা স্বস্তির। তবে আগুনের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার এলাকায় আরও কড়া নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

প্রশাসনের ভূমিকা

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দমকল বিভাগ আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সামগ্রিক চিত্র

লক্ষ্মীকান্তপুর বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়েছে।

এই ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ব্যস্ত বাজার এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা কতটা জরুরি।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these