পূর্ব বর্ধমান:
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ চলাকালীন এক গুরুতর ও উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অভিযোগ, একটি মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে কর্তব্যরত এক সাব-ইন্সপেক্টর (SI)-এর উপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার জেরে পরীক্ষাকেন্দ্র চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি ঘিরে শিক্ষা মহল ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুর এলাকার একটি স্কুলে চলছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন একজন পুলিশ আধিকারিক। অভিযোগ, সেই সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষক ও গ্রুপ-D কর্মীর হাতে মোবাইল ফোন থাকার বিষয়টি নজরে আসে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কর্তব্যরত এসআই নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে তাতেই শুরু হয় বচসা। মুহূর্তের মধ্যেই কথাকাটাকাটি তীব্র আকার নেয় এবং অভিযোগ, একাধিক শিক্ষক ও কর্মী মিলে ওই পুলিশ আধিকারিককে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন।
আহত এসআই, হাসপাতালে ভর্তি
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের জেরে এসআই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পরপরই পরীক্ষাকেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিয়ম ভাঙা নিয়েই মূল বিতর্ক
জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত মূলত মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়েই। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আগেই জানিয়েছিল, পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনও শিক্ষক, কর্মী বা পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মোবাইল থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়েই এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, মোবাইলটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল না এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ না দিয়েই পুলিশি কড়াকড়ি করা হয়।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান
ঘটনার খবর পেয়েই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনওরকম হিংসা বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সমস্ত পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি আরও কড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত শুরু
এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাত্র-অভিভাবকদের উদ্বেগ
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও। অনেক অভিভাবকই জানিয়েছেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের অশান্তি ছাত্রদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।
উপসংহার
মাধ্যমিক পরীক্ষা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্তব্যরত আধিকারিকের উপর হামলার মতো ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশাসন ও পর্ষদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।