দেওরিয়া, উত্তরপ্রদেশ:
একটি ছোট খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি যে এত বড় সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে, তা বোধহয় কেউ কল্পনাও করেনি। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় এমনই এক অবাক করা ও উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে মোমো খাওয়ার লোভে একটি পরিবারকে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার গয়না হারাতে হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওরিয়ার একটি গ্রামের বাসিন্দা এক নাবালক ছাত্র নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার পথে স্থানীয় একটি মোমো স্টলে যাতায়াত করত। প্রথমদিকে সে নিজের পকেটমানি দিয়ে মোমো কিনত। ধীরে ধীরে মোমোর প্রতি তার ঝোঁক এতটাই বেড়ে যায় যে, পকেটের টাকা শেষ হয়ে গেলেও সে মোমো খাওয়া বন্ধ করতে পারেনি।
এই সুযোগকেই কাজে লাগায় মোমো বিক্রেতারা। অভিযোগ, তারা নাবালকটিকে প্রলোভন দেখাতে শুরু করে— যদি সে টাকা না দিতে পারে, তবে বাড়ি থেকে গয়না এনে দিলেই বিনা পয়সায় মোমো খেতে পারবে।
গোপনে গয়না সরানোর অভিযোগ
প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কারও নজরে আসেনি। নাবালকটি ধীরে ধীরে বাড়ির আলমারি থেকে সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে গিয়ে মোমো বিক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে থাকে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এইভাবে একের পর এক মূল্যবান গয়না বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা যখন লক্ষ্য করেন, আলমারিতে রাখা গয়না প্রায় নেই বললেই চলে, তখন বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
৮৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি, হতবাক পরিবার
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া গয়নার মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ছিল বহু বছরের সঞ্চয়, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অলঙ্কার এবং বিয়ের গয়নাও। পরিবারের কর্তা জানান, “এক মুহূর্তের লোভ আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে।”
পুলিশে অভিযোগ, শুরু তদন্ত
ঘটনার পরেই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে মোমো স্টলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রতারণা ও নাবালককে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের কাছ থেকে কিছু গয়না উদ্ধার করা হয়েছে, তবে এখনও সব অলঙ্কার উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাবালকের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ
এই ঘটনায় নাবালকটির মানসিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, শিশুদের সহজে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে এমন অপরাধীরা সমাজের জন্য বড় বিপদ। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের ব্যবহার করে বা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মতো অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
এক প্লেট মোমোর লোভ কীভাবে একটি পরিবারকে আর্থিকভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনায় যেমন অপরাধীদের চক্রান্ত প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই সমাজের কাছে বড় সতর্কবার্তাও রেখে গেল— শিশুদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে আর এক মুহূর্তও অবহেলা করা চলবে না।