নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:
আজ বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেট। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ এই ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বাজেট পেশ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের বছরে হওয়ায় এই বাজেট পূর্ণাঙ্গ না হয়ে অন্তর্বর্তী হিসেবেই পেশ করা হচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার, ব্যয়ের দিকনির্দেশ এবং জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে আজকের বাজেটে।
কী এই অন্তর্বর্তী বাজেট?
অন্তর্বর্তী বাজেট বা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ মূলত এমন একটি আর্থিক নথি, যার মাধ্যমে সরকার সাময়িক সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অনুমোদন নেয়। নির্বাচনের আগে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার বদলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বাড়তি নজর
এই বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ইতিমধ্যেই সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। ফলে বাজেটে এই প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি বা ভাতার অঙ্কে কোনও পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা হলে তা ভোট রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি কর্মচারী ও ভাতা সংক্রান্ত প্রত্যাশা
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরাও আজকের বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (DA) সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা হয় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। যদিও অন্তর্বর্তী বাজেটে বড় আর্থিক সংস্কারের সম্ভাবনা কম, তবুও ইঙ্গিতপূর্ণ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে বাজেটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বাজেটে যে বিষয়গুলি প্রাধান্য পেতে পারে—
সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
কৃষি ও কৃষক সহায়তা
বিদ্যমান প্রকল্পগুলির বরাদ্দ বজায় রাখা
বড় নতুন প্রকল্পের ঘোষণা না হলেও চলমান কর্মসূচিগুলির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেটকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। শাসক দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আজকের বাজেটকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে বিরোধীরা বাজেটের প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখে সরকারের ব্যয়নীতি ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে প্রস্তুত।
এরপর কী?
অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর বিধানসভায় তা নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে তখন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজকের বাজেট রাজ্যের আর্থিক ভবিষ্যৎ যেমন নির্দেশ করবে, তেমনই আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে।