কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুঙ্গে আলোচনা। এই বাজেটেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা রাজ্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বাজেটেই ইঙ্গিত, কবে কার্যকর?
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করতে চলেছে। এই কমিশনের কাজ হবে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন কাঠামো, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করা।
যদিও এখনও নির্দিষ্ট তারিখ বা কার্যকর হওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নির্বাচন পর্ব মিটলেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের সপ্তম বেতন কমিশন বহু আগেই কার্যকর হলেও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা এখনও পুরনো কাঠামোর মধ্যেই রয়েছেন। মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত বকেয়া নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে দীর্ঘ আইনি লড়াইও চলছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের নিজস্ব সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা কর্মীদের কাছে বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু বেতন কমিশন নয়, বাজেটে একাধিক ‘চমক’
এই অন্তর্বর্তী বাজেটে সপ্তম বেতন কমিশনের পাশাপাশি একাধিক জনমুখী প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে—
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি:
সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে পাবেন ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন ১৭০০ টাকা।
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি:
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মীদের সম্মানী বাড়ানো হয়েছে।
বেকার যুবকদের জন্য নতুন সহায়তা:
‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট বয়সসীমার বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেট শুধুমাত্র আর্থিক নথি নয়, বরং নির্বাচনের আগে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও বটে। রাজ্য সরকারি কর্মী, মহিলা ভোটার এবং যুব সমাজ—এই তিনটি বড় ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই বাজেটে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলগুলি যদিও এই বাজেটকে ‘ভোটমুখী’ বলে কটাক্ষ করেছে, তবে শাসকদলের দাবি—এটি জনকল্যাণমূলক এবং সামাজিক সুরক্ষার বাজেট।
কর্মচারী মহলে প্রতিক্রিয়া
রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে অনেকেই এখনো লিখিত নির্দেশিকা ও নির্দিষ্ট সময়সীমার অপেক্ষায়। তাদের বক্তব্য, “ঘোষণা ভালো, কিন্তু দ্রুত বাস্তবায়নই আসল।”
শেষ কথা
২০২৬ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। সেই আবহে সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা মমতা সরকারের জন্য যেমন বড় রাজনৈতিক অস্ত্র, তেমনই রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে বহুদিনের প্রত্যাশার আলো।
এখন দেখার, এই ঘোষণা বাস্তব রূপ পায় কত দ্রুত এবং তার প্রভাব পড়ে কতটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে।