ট্রেনেই ‘সহযাত্রী’ কিং কোবরা! চাঞ্চল্যকর গবেষণায় উঠে এল ভারতের রেলপথে সাপ চলাচলের তথ্য

কলকাতা:
ট্রেনে যাতায়াতের সময় সহযাত্রী হিসেবে মানুষ ছাড়াও অন্য কেউ থাকতে পারে—এ কথা শুনলে অবাক লাগতেই পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই বিস্ময়কেই বাস্তব বলে প্রমাণ করেছে। গবেষকদের দাবি, ভারতের একাধিক রেলপথে ট্রেনে চেপেই যাতায়াত করছে কিং কোবরা ও অজগরের মতো বড় ও বিষধর সাপ। বিশেষ করে গোয়া ও পশ্চিমঘাট সংলগ্ন রেল রুটে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

গোয়ার ট্রেনেই মিলছে কিং কোবরা

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গোয়ার বিভিন্ন রেলপথে অন্তত ৪০টিরও বেশি কিং কোবরা উদ্ধারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই সাপগুলির বেশিরভাগকেই উদ্ধার করা হয়েছে ট্রেনের কামরা, ইঞ্জিনের নিচের অংশ কিংবা লাগেজ ভ্যান থেকে। উত্তর ও দক্ষিণ গোয়া—দুই জেলাতেই এমন ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমঘাটের ঘন জঙ্গল সংলগ্ন রেললাইন দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলিই এই ঘটনার প্রধান কেন্দ্র। খাবারের খোঁজে বা আশ্রয়ের জন্য সাপগুলি ট্রেনের ভিতরে ঢুকে পড়ছে এবং অজান্তেই বহু কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেলছে।

স্বাভাবিক এলাকা ছাড়িয়ে বিপজ্জনক যাত্রা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল—এই সাপগুলির অনেককেই এমন এলাকায় পাওয়া গেছে, যেখানে সাধারণত তাদের থাকার কথা নয়। গবেষকদের আশঙ্কা, ট্রেনে চেপে এইভাবে দূরে চলে যাওয়ায় সাপগুলিকে এমন পরিবেশে ছেড়ে দিতে হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানের সঙ্গে খাপ খায় না। ফলে সাপ এবং মানুষের—দু’পক্ষের জন্যই ঝুঁকি বাড়ছে।

এক গবেষকের কথায়,
“রেলপথ কার্যত অনিচ্ছাকৃতভাবে সাপদের জন্য একটি পরিবহণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যদিও এখনও পর্যন্ত বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর নেই, তবুও ট্রেনের কামরায় বিষধর সাপ থাকার সম্ভাবনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা বা রেলকর্মীরা সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, এরপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তর বা উদ্ধারকারী দলকে।

উদ্ধারকাজে যুক্ত এক স্বেচ্ছাসেবক জানান,
“বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপগুলি আক্রমণাত্মক নয়। কিন্তু ভিড় বা আতঙ্ক তৈরি হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।”

গবেষকদের সুপারিশ

এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকরা একাধিক সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

জঙ্গল সংলগ্ন রেলস্টেশনে বাড়তি নজরদারি

ট্রেনের নিচের অংশ ও বগি নিয়মিত পরীক্ষা

রেলকর্মীদের বন্যপ্রাণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ

বন দপ্তর ও রেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বৃদ্ধি

তাঁদের মতে, সচেতনতা বাড়ানো গেলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

অজানা সহযাত্রীদের সঙ্গে সফর!

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। সেই যাত্রায় কখনও যে মানুষের পাশাপাশি নীরবে কোনও কিং কোবরা বা অজগরও একই ট্রেনে পথ চলতে পারে—এই তথ্য নিঃসন্দেহে চমকে দেওয়ার মতো। তবে গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটি শুধুই রোমাঞ্চকর খবর নয়, বরং মানুষের পরিকাঠামো ও বন্যপ্রাণের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these