রাজস্থানের জয়সলমেরের কাছে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল যাত্রীরা। চলন্ত অবস্থায় স্বর্ণ নগরী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচের নিচে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দ্রুত রেলের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে জয়সলমেরগামী স্বর্ণ নগরী এক্সপ্রেসটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল। সেই সময় ট্রেনটি জয়সলমেরের অদূরে পৌঁছনোর পর আচমকাই একটি কোচের নীচে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই লোকো পাইলট জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়। রেলকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। আতঙ্কিত যাত্রীদের শান্ত করতে রেলের আধিকারিকরা মাইকে ঘোষণা করেন এবং কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, কোচের নীচে থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বা ব্রেক সিস্টেমে ত্রুটির কারণেই আগুন লাগতে পারে। যদিও রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কোচটি আলাদা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও যাত্রীর হতাহত হওয়ার খবর নেই। তবে কয়েকজন যাত্রী ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ বোধ করায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য ওই রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেন সংক্রান্ত যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার খবর সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গেলেও, এই ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে।