ভালোবাসার বিশেষ দিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখনও কয়েকদিন দূরে, কিন্তু তার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন ফুল বাজারে রোজ ফুলের দামে কার্যত আগুন লেগেছে। সপ্তাহ শুরু হতেই রোজের দর যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অন্যদিকে, ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন—এই সময় চাহিদা বাড়লে দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।
কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক বড় ফুল বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের মধ্যেই রোজের দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। যে রোজ সাধারণ দিনে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, ভ্যালেন্টাইন্স ডে ঘনিয়ে আসতেই সেই একই রোজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অনেক বেশি টাকা।
ফুল ব্যবসায়ীদের মতে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে রোজের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে। তবে এবছর চাহিদা তুলনামূলকভাবে আরও বেশি। একদিকে ভালোবাসার সপ্তাহ ঘিরে উপহার দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, অন্যদিকে কর্পোরেট অনুষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন ইভেন্টে ফুলের অর্ডার একসঙ্গে আসায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
চাষিরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার প্রভাবও রোজের উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। কোথাও কোথাও ফলন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ ঠিক মতো না থাকায় দাম বেড়েছে। পরিবহণ খরচ ও শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে বলে দাবি ফুল ব্যবসায়ীদের।
অন্যদিকে, ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের মতে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে এলেই রোজ ফুলের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে কম সংখ্যক ফুল কিনছেন অথবা বিকল্প ফুলের দিকে ঝুঁকছেন।
ফুল বাজারে শুধু রোজ নয়, গাঁদা, জারবেরা, কার্নেশনসহ অন্যান্য ফুলের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও রোজের দাম বৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, কারণ ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র সঙ্গে এই ফুলের আবেগগত যোগ সবচেয়ে গভীর।
ব্যবসায়ীদের দাবি, শেষ মুহূর্তে চাহিদা আরও বাড়লে দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পেরিয়ে গেলে বাজার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলেই আশা করছেন তাঁরা। ক্রেতাদের অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন শেষ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমার আশায়, যদিও সেই সম্ভাবনা খুব একটা উজ্জ্বল নয় বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, ভালোবাসার দিনে প্রিয়জনকে রোজ উপহার দিতে চাইলে এবছর পকেটের দিকে বাড়তি নজর রাখতেই হচ্ছে। ফুলের সৌরভে ভালোবাসা প্রকাশের এই উৎসব, দামের চাপে যেন কিছুটা ভারী হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে।